Monday, 3 February 2014

বাণিজ্যমেলায় ওয়ালটন ফ্রিজের মডেলভেদে ১০ হাজার টাকা ছাড়

ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলায় ফ্রিজের মডেলভেদে ১০ হাজার টাকা ছাড় দিয়েছে ওয়ালটন। ক্রেতার চাহিদা সামনে রেখে ৩০টিরও বেশি মডেল এবং ৬৫ কালারের ফ্রিজ মেলায় নিয়ে এসেছে প্রতিষ্ঠানটি। বিক্রিও হচ্ছে প্রচুর। বিশেষ করে বড় আকারের সাইড বাই সাইড ফ্রিজটি ক্রেতাদের আকৃষ্ট করেছে। ফলে ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে নিয়ে আসতে মেলায় সাইড বাই সাইড ফ্রিজে ছাড় দেয়া হয়েছে ১০ হাজার টাকা। এ ছাড়া মেলা থেকে কিনলে হোম ডেলিভারি এবং ফ্রি সার্ভিসও দেয়া হচ্ছে। জানা গেছে, ক্রমবর্ধমান মানোন্নয়ন এবং পণ্যের আধুনিকায়নের ধারাবাহিকতায় যোগ হয়েছে ডব্লিউএসএস-৪এইচ৫ মডেলের এ ফ্রিজ। বিশ্বমানের ৪৮৫ লিটারের এ ফ্রিজটি এখন ক্রেতা পছন্দের শীর্ষে। এর সাধারণ বাজার মূল্য ৭৯,৯০০ টাকা। মেলা উপলক্ষে ১০ হাজার টাকা কমিয়ে ৬৯ হাজার টাকা দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। ওয়ালটন কর্তৃপক্ষ আশা করছে, দেশের চাহিদা মিটিয়ে শিগগিরই সাইড বাই সাইড ফ্রিজ রপ্তানি করা সম্ভব হবে।  ওয়ালটন প্যাভিলিয়নের ইনচার্জ আকরামুজ্জামান অপু জানান, গত বছর বাণিজ্যমেলায় ১৩৬ প্রকার পণ্য ছিল, এবার তা কয়েক গুণ ছাড়িয়ে গেছে। এবারের মেলায় ফ্রিজের ক্ষেত্রে মডেলভেদে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা ছাড় দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এই অফারের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। ওয়ালটনের ক্রিয়েটিভ অ্যান্ড পাবলিকেশন বিভাগের অপারেটিভ ডাইরেক্টর উদয় হাকিম বলেন, ফ্রিজ তৈরির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখন অনেক এগিয়ে গেছে। গুণগত উচ্চমান অক্ষুণ্ন রেখে উৎপাদন বৃদ্ধির কারণে পণ্যের উৎপাদন খরচ কমে গেছে। যার ফেলে ওয়ালটন ফ্রিজ এখন সাশ্রয়ী মূল্যে পাওয়া যাচ্ছে। ওয়ালটনের কারণে নিম্ন আয়ের পরিবারও এখন ফ্রিজ ব্যবহার করতে পারছে। উৎপাদন বৃদ্ধি সাপেক্ষে ভবিষ্যতে ওয়ালটন ফ্রিজের দাম আরও কমতে পারে। ওয়ালটনের জনসংযোগ ও মিডিয়া বিভাগের নির্বাহী পরিচালক হুমায়ূন কবির বলেন, ওয়ালটন ফ্রিজে শতভাগ কপার কনডেন্সার এবং ৮০ ভাগ এনার্জি সেভিং এলইডি ল্যাম্প ব্যবহৃত হয়। সাধারণ ফ্রিজের তুলনায় এ ফ্রিজের ডিপ অংশও অনেক বড়। ডিইসিএস প্রযুক্তির ফলে বিদ্যুৎ খরচ অনেক কম।

ডিএসইর শরিয়াহ ইনডেক্স পুঁজিবাজারে যোগ করবে নতুন মাত্রা

নাসির উদ্দিন চৌধুরী
৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৪, সোমবার,
দীর্ঘ দিনের জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ চালু করেছে বহুল প্রত্যাশিত ‘শরিয়াহ ইনডেক্স’। গত ২০ জানুয়ারি এ সূচক যাত্রা শুরু করে দেশের শীর্ষ পুঁজিবাজারের এ সূচক। মূলত প্রচলিত অন্যান্য বিদেশী ফান্ডের মতো সৌদি আরব ও আরব আমিরাতসহ মুসলিম বিশ্বের বিনিয়োগ আকর্ষণকে প্রধান বিবেচনায় রেখে এ সূচক চালু করা হলেও এর মাধ্যমে দেশের পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীদের একটি বড় অংশের দীর্ঘ দিনের প্রত্যাশার যেমন প্রতিফলন ঘটেছে, তেমনি এ উদ্যোগ পুঁজিবাজারে যোগ করবে নতুন মাত্রা।
বাংলাদেশে একটি বিশেষ ইসলামি বিনিয়োগ গোষ্ঠী পুঁজিবাজারকে ইসলামিক ইনডেক্সের ওপর ভিত্তি করে দেখতে চায়। এর মধ্যে যেমন রয়েছে শরিয়াহভিত্তিক পরিচালিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, তেমনি দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বিভিন্ন সংগঠন যারা নিজেদের অলস পুঁজিকে ইসলামি কাটামোর মধ্যে থেকে পুুঁজিবাজারে বিনিয়োগের মাধ্যমে লাভবান হতে চায়। এটা তাদের দীর্ঘ দিনের দাবি। এ ইনডেক্সের সুবিধা হলোÑ যারা শরিয়াহভিত্তিক লেনদেন বা বিনিয়োগ করে তারা মোট ইনডেক্স বা সুনির্দিষ্ট ইনডেক্স দেখে বিনিয়োগ করতে পারে না। কারণ তারা একটি নিজস্ব পোর্টফোলিও ধারণ করে। ওই পোর্টফোলিওর বাইরে তারা বিনিয়োগ করে না। তাই তাদের জন্য যদি নির্দিষ্ট কোনো ইনডেক্স থাকে, তাদের বিনিয়োগ সিদ্ধান্তে সহায়ক হবে। এ ছাড়া সুদভিত্তিক পরিচালিত নয় এমন সব ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান এসব ইসলামিক ইনডেক্সের আওতাভুক্ত।
মুসলিম বিশ্বের বিনিয়োগ আকর্ষণের পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরের এ দাবি বাস্তবায়নে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তালিকাভুক্ত কোম্পানির মধ্যে ইসলামি শরিয়াহ আইন পরিপালনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ে গত ২০ জানুয়ারি চালু করা হয় শরিয়াহ ইনডেক্স (সূচক)। এই সূচকের ভিত্তি ধরা হয়েছে এক হাজার পয়েন্ট আর ভিত্তি বছর হিসেবে ২০১১ সালের জানুয়ারি মাসকে বেছে নেয়া হয়েছে। তবে কোনো কোনো কোম্পানি এই সূচকে অন্তর্ভুক্ত হবে তা জানানো হয়নি। ডিএসইর অন্য দু’টি সূচকের মতোই আন্তর্জাতিক সূচক গণনা প্রতিষ্ঠান এসঅ্যান্ডপির তত্ত্বাবধানেই চালু করা হয় সূচকটি।
ইতোমধ্যে ডিএসই কর্তৃপক্ষ সূচকটি নিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে আলাপ-আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএসই সভাপতি আহসানুল ইসলাম টিটু সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি আরো বলেন, শরিয়াহভিত্তিক ইনডেক্স চালু হলেও সাধারণ বিনিয়োগকারীরা নানা কারণে সরাসরি অংশগ্রহণ করতে পারছে না। যেসব কোম্পানি এ ইনডেক্সের আওতায় রয়েছে সেগুলোয় বিনিয়োগের বিষয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না। তাই ডিএসইর প থেকে দু’টি পদ্ধতিতে এসব কোম্পানিকে ইনডেক্সের আওতায় আনা হচ্ছে। এর একটি কোম্পানির প্রোডাক্ট অর্থাৎ ব্যবসার ক্যাটাগরি, অন্যটি আর্থিক বিবেচনা। সাধারণ বিনিয়োগকারীরা এ ইনডেক্সে অংশগ্রহণ করতে চাইলে শরিয়াহভিত্তিক পরিচালিত তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোয় বিনিয়োগ করতে পারবেন। এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোয় বিপুল উদ্বৃত্ত অর্থ রয়েছে; কিন্তু ইসলামি প্রোডাক্টের স্বল্পতার কারণে আমাদের বাজারের প্রতি তারা আকৃষ্ট হয়নি। শরিয়াহ ইনডেক্স চালু হলে এ বাজারের প্রতি তাদের আগ্রহ বাড়বে।
তিনি আরো বলেন, শরিয়াহ ইনডেক্সে এ পর্যন্ত ৭০টির ওপর কোম্পানি অংশগ্রহণ করছে। যেসব কোম্পানি ইসলামি শরিয়াহ অনুসরণ করছে, এদের ইনডেক্সের আওতায় আনা হচ্ছে। তবে অ্যালকোহল, সুদভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলো ইনডেক্সের বাইরে থাকছে। যেসব কোম্পানি এ ইনডেক্সের আওতায় থাকছে, তাদের কোম্পানি পরিচালনার পদ্ধতি নিয়ে বা প্রোডাক্ট নিয়ে কোনো অভিযোগ থাকলে বিনিয়োগকারীরা তা ডিএসইকে জানাতে পারবে। আমরা সে অভিযোগ শরিয়াহ বোর্ডকে অবহিত করব। শরিয়াহ বোর্ড তা পর্যালোচনা করে যে সিদ্ধান্ত দেবে, সে অনুযায়ী আমরা পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
এ দিকে নতুন এ ইনডেক্স চালু করায় দীর্ঘ দিন ধরে দেশের পুঁজিবাজারে সক্রিয় বিনিয়োগকারীদের একটি বড় অংশ ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে সাধুবাদ জানান। এদের মধ্যে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা যেমন রয়েছেন, তেমনি রয়েছেন সামরিক বাহিনীর কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীও। এ ছাড়া রয়েছেন বিভিন্ন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মরত শিক্ষক কর্মচারীও। রয়েছেন রাজধানী ও রাজধানীর বাইরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা বিভিন্ন মাদরাসার ছাত্র-শিক্ষক। সবার প্রতিক্রিয়া ছিল ইতিবাচক।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে অবসরপ্রাপ্ত একজন সরকারি কর্মকর্তা নয়া দিগন্তকে বলেন, চাকরি থেকে অবসর নেয়ার পর প্রচলিত সুদের বাইরে সুদমুক্ত বিনিয়োগের একটি দরজা খুলে দিয়েছে ডিএসইর নতুন এ ইনডেক্স। এখন নির্দ্বিধায় পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করা যায়। তা ছাড়া ইসলামি শরিয়াহভিত্তিক পরিচালিত হওয়ার কারণে এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের মধ্যে স্বচ্ছতা বজায় থাকার সম্ভাবনা থাকবে বেশি।
একই মনোভাব প্রকাশ করলেন একজন অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তাও। তিনি বলেন, দীর্ঘ দিন চাকরি করেই জীবিকা নির্বাহ করেছি। অবসরকালীন পাওয়া জীবনের সর্বশেষ অর্জনটি বিনিয়োগের একটি উপযুক্ত মাধ্যমের অপেক্ষায় ছিলাম। ডিএসইর এ উদ্যোগ আমাকে আশান্বিত করেছে। জীবনের শেষ দিনগুলোয় সুদমুক্ত বিনিয়োগই আমাকে মানসিকভাবে স্বস্তি এনে দিতে পারে

Sunday, 2 February 2014

বিনা ঘোষণায় সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা সঙ্গে রাখা যাবে

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংক এক প্রজ্ঞাপন জারি করে সর্বোচ্চ সীমা দুই হাজার টাকা বাড়িয়ে পাঁচ হাজার করে।
এখন থেকে কেউ বিদেশে যাওয়ার সময় বা দেশে আসার সময় কোনো ঘোষণা ছাড়া সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা সঙ্গে রাখতে পারবে, যা আগে ছিল সর্বোচ্চ ২ হাজার টাকা।
আইন অনুযায়ী এর চেয়ে বেশি পরিমাণ বাংলাদেশি মুদ্রা সঙ্গে রাখতে হলে বিমান বা স্থল বন্দরে শুল্ক কর্তৃপক্ষের কাছে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত ফরমে ঘোষণা করতে হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, “বিদেশ থেকে বাংলাদেশে আসার সময় শুল্ক কর্তৃপক্ষের কাছে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত ফরমে ঘোষণা না দিয়ে সঙ্গে রাখার যোগ্য বাংলাদেশি কারেন্সির পরিমাণ এবং বিদেশে যাওয়ার সময় বাংলাদেশি কারেন্সি সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার পরিমাণ মাথাপিছু ২ হাজার টাকা থেকে ৫ হাজার টাকায় উন্নীত করা হলো।”
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, সম্প্রতি বিমান, ট্যাক্সিসহ যাতায়াত ভাড়া বেড়েছে। অনেকে বিদেশ থেকে দেশে আসার পরে তার গন্তব্য স্থলে যেতে অভ্যন্তরীণ রুটের বিমান ধরতে চান। কিন্তু ২ হাজার টাকায় এখন আর বিমান ভাড়া হয় না। অথবা ঢাকার বাইরে যেতেও ট্যাক্সি ভাড়া লাগে ২ হাজার টাকার বেশি। এছাড়া অনেককে একদিনে

বিদেশি বিনিয়োগে চড়ছে পুঁজিবাজার

টাকার বিপরীতে ডলারের শক্তিশালী অবস্থান এবং শেয়ারের দর নেমে যাওয়ায় মুনাফার আশায় বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে ঝুঁকছেন বলে বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
তবে তারা কোনো কারণে চলে গেলে তা বাজারকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলতে পারে বলে আগাম সতর্কবার্তা দিয়েছেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাবে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) দেশে আড়াই হাজার কোটি টাকার নিট বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে।
এই অঙ্ক গত বছরের পুরো সময়ের চেয়েও প্রায় ২০০ কোটি টাকা বেশি। আর জুলাই-ডিসেম্বর সময়ের চেয়ে প্রায় তিন গুণ বেশি।
চলতি ২০১৩-১৪ অর্থবছরের প্রথমার্ধে অর্থ্যাৎ জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে পুঁজিবাজারে ৩১ কোটি ডলারের (আড়াই হাজার কোটি টাকা) বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে। গত বছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ১১ কোটি ৬০ লাখ ডলার।
২০১২-১৩ অর্থবছরের পুরো সময়ে (জুলাই-জুন) এসেছিল ২৮ কোটি ৭০ ডলার। ২০১১-১২ অর্থবছরে পুঁজিবাজারে বিদেশী বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ২৪ কোটি ডলার।
পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ সহায়তাকারী অন্যতম প্রতিষ্ঠান আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “প্রতিদিনই বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আমরা কিছু নতুন নতুন মুখ দেখতে পাচ্ছি।”
এতে আস্থা ফিরে পেয়ে স্থানীয় বিনিয়োগকারীরাও বাজারমুখী হচ্ছেন এবং তার প্রভাবেই লেনদেনে সাম্প্রতিক চাঙাভাব দেখা যাচ্ছে বলে মনে করেন তিনি।
কী কারণে বিদেশি বিনিয়োগে প্রবাহ বেড়েছে- এই প্রশ্নে মনিরুজ্জামান বলেন, “ব্যাংক খাতের শেয়ারসহ মৌলভিত্তিক শেয়ারের দর অনেক কমে গিয়েছিল। এছাড়া বেশ কিছু দিন ধরে আমরা বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় হারকে স্থিতিশীল রাখতে পেরেছি।”
৫ জানুয়ারি নির্বাচনের পর দেশের দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রধান সূচক প্রায় ৩০০ পয়েন্ট বেড়ে যায়। এই সময়ে বাজারে দৈনিক গড় লেনদেন হয়েছে ৭০০ কোটি টাকা।
বিদেশি বিনিয়োগ বেড়ে যাওয়াকে সার্বিক অর্থে ইতিবাচক বলে মনে করছেন পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা-বিএসইসি’র সাবেক চেয়ারম্যান মির্জ্জা আজিজ।

এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম
এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “যে কোনো পুঁজিবাজারে ৪ থেকে ৫ শতাংশ বিদেশি বিনিয়োগ থাকা ভালো।  “২০০৯-১০ সালে বাজারে বড় ধসের পর বিদেশি বিনিয়োগ ছিল না বললেই চলে। গত বছরের প্রথম দিক থেকে কিছুটা আসতে শুরু করে।”
মির্জ্জা আজিজও বলেন, বিশ্বের অনেক দেশের পুঁজিবাজারে ধস এবং টাকার বিপরীতে ডলারের শক্তিশালী অবস্থান বিদেশিদের আকৃষ্ট করেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য পর‌্যালোচনায় দেখা যায়, গত সপ্তাহের শেষ দিন বৃহস্পতিবার আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে প্রতি ডলারের দর ছিল ৭৭ টাকা ৭৫ পয়সা।
গত দশ মাস ধরে এই একই জায়গায় ‘স্থির’ রয়েছে ডলারের দর।
অন্যদিকে ছয় মাসে ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রুপি প্রায় ৪ শতাংশ দর হারিয়েছে।
রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার প্রতি ডলার বিক্রি হয়েছে ৬২ টাকা ০২ পয়সায়। গত বছরের জুন মাস শেষে এর দর ছিল ৫৯ টাকা ১০ পয়সা।
২০১৩ সালের অগাস্টে রুপির দাম বেড়ে এক পর‌্যায়ে ৬৮ টাকা ৫০ পয়সা পর‌্যন্ত উঠেছিল। 
বিদেশি বিনিয়োগের উল্লম্ফনকে ইতিবাচক বললেও এই বিষয়ে সতর্ক থাকার প্রয়োজন রয়েছে বলেও মনে করেন মির্জ্জা আজিজ।
“একটা ঘটনা মনে রাখতে হবে, ১৯৯৭/৯৮ সালে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, কোরিয়া এবং থাইল্যান্ডে যে ধস নেমেছিল, তা কিন্তু এই মোবাইল (অল্প সময়ের জন্য যে বিনিয়োগ) বিদেশি বিনিয়োগের কারেণে ঘটেছিল।”
বাংলাদেশে এখন আসা এই অর্থকেও ‘মোবাইল’ বিনিয়োগ আখ্যায়িত করেন তিনি। অর্থাৎ ভালো মুনাফার লোভে কিছু বিদেশি বিনিয়োগকারী এখানে আসছেন।
যে কোনো কারণে বিদেশি বিনিয়োগের একটি অংশ চলে গেলেও যাতে বাজারে তার নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে অথবা এটাকে ‘গুজব’ হিসেবে ব্যবহার করে কারসাজি করার সুযোগ যেন কেউ নিতে না পারে, সেজন্য সরকার, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, ডিএসই, সিএসই, বিনিয়োগকারী সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
মির্জ্জা আজিজ বলেন, “তারা (বিদেশি) যখন দেখবে- ডলারের দর কমে যেতে পারে অথবা রাজনৈতিক অস্থিরতা আসন্ন, তখন তারা কিন্তু বিক্রি-টিক্রি করে আবার দ্রুত চলে যাবেন।”
তবে ডলারের দর কমার কোনো লক্ষণ না দেখার পাশাপাশি রপ্তানি আয়, রিজার্ভ ও রেমিটেন্স প্রবাহ ভাল থাকায় বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়তে হবে না বলে আশা করছেন তিনি।  
ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সালে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার প্রকৃত বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে, যা আগের বছর ছিল ৮০০ কোটি টাকা। অর্থাৎ বিদায়ী বছরে ঢাকার পুঁজিবাজারে বিদেশি বিনিয়োগ প্রায় ১৪৫ শতাংশ বেড়েছে।
গত বছরে এই বাজারে প্রায় ৩ হাজার ৩৬১ কোটি টাকার বৈদেশিক লেনদেন হয়। এর মধ্যে বিদেশিরা দুই হাজার ৬৫২ কোটি টাকার শেয়ার কিনেছেন, বিক্রি করেছেন ৭০৯ কোটি টাকার শেয়ার।
এতে বছর শেষে প্রকৃত বিদেশি বিনিয়োগ দাঁড়ায় ১ হাজার ৯৪৪ কোটি টাকা; যা ২০১২ সালে ছিল ৭৯৩ কোটি টাকা।
১৯৮০ সালের ফরেন প্রাইভেট ইনভেস্টমেন্ট (প্রমোশন অ্যান্ড প্রোটেকশন) আইনের আওতায় বিদেশিরা সহজ শর্তে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে পারে। পরে মুনাফা তুলে নেয়ার ক্ষেত্রে কোনো বিধি-নিষেধ নেই।

মো. মনিরুজ্জামান
মো. মনিরুজ্জামান
তবে প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে কোম্পানির প্রাথমিক শেয়ার কিনলে তাতে নির্ধারিত সময়ের জন্য লক ইন থাকে। অর্থাৎ একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বিদেশিরা ওইসব শেয়ার বিক্রি করতে পারেন না।মনিরুজ্জামান বলেন,“যখন কোম্পানির শেয়ারের বাজারমূল্য মৌলভিত্তির নিচে নেমে আসে, তখনি বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগে আকৃষ্ট হন। বিশেষ করে যখন বাজারের ওপর অধিকাংশ বিনিয়োগকারীর হতাশা বাড়তে থাকে, সেই সময়েই বিদেশিরা শেয়ার কেনেন।
“আর বাজারের প্রতি যখন অধিকাংশ বিনিয়োগকারীর আগ্রহ বাড়ে, তখন বিদেশিরা বিক্রি করেন। এখন সেটি হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে।”
মির্জ্জা আজিজ বলেন, অতীতের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, কোনো দেশে সরকার বদলকে কেন্দ্র করে যখন রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দেয়, তখন শেয়ারবাজারে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ে।
কারণ, রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে দেশীয় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে পুঁজিবাজারে। এই সুযোগটি কাজে লাগান বিদেশিরা।
“পরে যখন দাম বাড়ে, তখন তারা বিক্রি করে দিয়ে মুনাফা করেন,” বলেন এই পুঁজিবাজার বিশ্লেষক

বাড়তে পারে ইনসাইডার ট্রেডিং প্রবণতা

বাড়তে পারে ইনসাইডার ট্রেডিং প্রবণতা
 1  1 Google +0  0  0  0
ঢাকা, ফেব্রুয়ারি ০২: পুঁজিবাজারের গত দুই মাসের আচরণ অনেকটাই স্বাভাবিক। অধিকাংশ শেয়ার দরের পাশাপাশি বাড়ছে লেনদেন। ডিসেম্বর ক্লোজিং কোম্পানিগুলো রয়েছে ডিভিডেন্ড ঘোষণার দ্বারপ্রান্তে। অন্যদিকে ডিসেম্বর শেষে প্রান্তিক আর্থিক প্রতিবেদনও প্রকাশের আওতায় রয়েছে। ইতিমধ্যে অনেক কোম্পানি প্রান্তিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এ সুযোগে ফায়দা হাসিলে সক্রিয় হচ্ছে একশ্রেণীর বিনিয়োগকারী। ইনসাইডার ট্রেডিংয়ের মাধ্যমে লাভবান হতে তারা ইতিমধ্যে বিভিন্ন কোম্পানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আঁতাত শুরু করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তাই ঊর্ধ্বমুখী বাজারে ইনসাইডার ট্রেডিংয়ের সুবিধাভোগী বিনিয়োগকারীদের ফাঁদ থেকে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা। কারণ বাজারে ইনসাইডার ট্রেডিং শুরু হলে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হন।


বিনিয়োগকারীরা বলছেন, ইনসাইডার ট্রেডিং বা কোম্পানির মূল্য সংবেদনশীল তথ্য আগাম ফাঁসের মাধ্যমে স্বার্থ হাসিলের পাঁয়তারা আবারো ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। জুন ক্লোজিংয়ের পর বিভিন্ন কোম্পানির প্রান্তিক প্রতিবেদনের তথ্য আগাম ঘোষণার মাধ্যমে ফায়দা হাসিলের চক্রান্তে মেতে ওঠে একশ্রেণীর বিনিয়োগকারী।ক কেননা বিভিন্ন ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং বীমা খাতের বেশিরভাগ কোম্পানির আর্থিক বছর শেষ হয় ডিসেম্বরে। ইতিমধ্যে এসব প্রতিষ্ঠানের অর্ধবার্ষিক হিসাব ক্লোজ হয়েছে। আর এসব তথ্য প্রকাশের আগেই বাজারে এ নিয়ে শুরু হয়েছে গুজব।

ব্যাংকগুলোর প্রথম প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন তুলনামূলক খারাপ ছিল। তবে এ প্রান্তিকে ব্যাংকগুলোর অবস্থান ভালো থাকবে এ ধরনের গুজব ইতিমধ্যে বাজারে ছড়িয়ে পড়েছে। আর এ গুজবের ওপর ভিত্তি করে বিনিয়োগের সিদ্ধান্তও নিতে শুরু করেছেন অনেকে।

তাদের মতে, অধিকাংশ সময় এ ধরনের আগাম তথ্য সত্য হয়। তাই আগাম তথ্যের ভিত্তিতে বিনিয়োগ করা বিনিয়োগকারীদের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। মূলত শুরুতে ইনসাইডার ট্রেডিংয়ের মাধ্যম লাভবান হলেও এক সময় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের চরম মূল্য দিতে হয়- এমনটি মনে করেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

এ ব্যাপারে একটি মার্চেন্ট ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, দেশের শেয়ারবাজারের অধিকাংশ বিনিয়োগকারী গুজব সম্পর্কে অসচেতন। এছাড়া শেয়ার ব্যবসা সম্পর্কেও অধিকাংশ বিনিয়োগকারীর যথেষ্ট জ্ঞান নেই। কিন্তু তারা কম সময়ে অধিক মুনাফা প্রত্যাশী। যে কারণে তাদের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার সুযোগ পায় কারসাজি চক্র।

বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশের শেয়ারবাজারে ইনসাইডার ট্রেডিংয়ের রহস্য উদঘাটনের প্রক্রিয়া যথেষ্ট শক্তিশালী নয়। তাছাড়া ইনসাইডার ট্রেডিং রোধে কোনো পদক্ষেপই সুফল বয়ে আনতে পারে না। পাশাপাশি আগাম তথ্যগুলো অতি দ্রুত বাজারে ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা তা বিশ্বাস করেন এবং সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেন। তাই কারা ইনসাইডার ট্রেডিংয়ের সঙ্গে জড়িত তা বের করা দুষ্কর হয়ে পড়ে। এছাড়া এ ধরনের লেনদেনে নিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বরাবরই উদাসীন। কিন্তু বিনিয়োগকারীদের নিজেদের স্বার্থেই এ লেনদেন থেকে বিরত থাকা প্রয়োজন। এ ধরনের লেনদেন থেকে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক থাকতে হবে। আর বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মৌলভিত্তির কোম্পানিকে সবসময় প্রাধান্য দিতে হবে বলে মনে করেন বাজার বাজার সংশ্লিষ্টরা।

শেয়ারনিউজ২৪/এ/আআ/২০০৫ঘ.
- See more at: http://www.sharenews24.com/index.php?page=details&nc=52&news_id=38032#sthash.raAMcEnM.dpuf
বাড়তে পারে ইনসাইডার ট্রেডিং প্রবণতা
 1  1 Google +0  0  0  0
ঢাকা, ফেব্রুয়ারি ০২: পুঁজিবাজারের গত দুই মাসের আচরণ অনেকটাই স্বাভাবিক। অধিকাংশ শেয়ার দরের পাশাপাশি বাড়ছে লেনদেন। ডিসেম্বর ক্লোজিং কোম্পানিগুলো রয়েছে ডিভিডেন্ড ঘোষণার দ্বারপ্রান্তে। অন্যদিকে ডিসেম্বর শেষে প্রান্তিক আর্থিক প্রতিবেদনও প্রকাশের আওতায় রয়েছে। ইতিমধ্যে অনেক কোম্পানি প্রান্তিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এ সুযোগে ফায়দা হাসিলে সক্রিয় হচ্ছে একশ্রেণীর বিনিয়োগকারী। ইনসাইডার ট্রেডিংয়ের মাধ্যমে লাভবান হতে তারা ইতিমধ্যে বিভিন্ন কোম্পানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আঁতাত শুরু করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তাই ঊর্ধ্বমুখী বাজারে ইনসাইডার ট্রেডিংয়ের সুবিধাভোগী বিনিয়োগকারীদের ফাঁদ থেকে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা। কারণ বাজারে ইনসাইডার ট্রেডিং শুরু হলে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হন।


বিনিয়োগকারীরা বলছেন, ইনসাইডার ট্রেডিং বা কোম্পানির মূল্য সংবেদনশীল তথ্য আগাম ফাঁসের মাধ্যমে স্বার্থ হাসিলের পাঁয়তারা আবারো ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। জুন ক্লোজিংয়ের পর বিভিন্ন কোম্পানির প্রান্তিক প্রতিবেদনের তথ্য আগাম ঘোষণার মাধ্যমে ফায়দা হাসিলের চক্রান্তে মেতে ওঠে একশ্রেণীর বিনিয়োগকারী।ক কেননা বিভিন্ন ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং বীমা খাতের বেশিরভাগ কোম্পানির আর্থিক বছর শেষ হয় ডিসেম্বরে। ইতিমধ্যে এসব প্রতিষ্ঠানের অর্ধবার্ষিক হিসাব ক্লোজ হয়েছে। আর এসব তথ্য প্রকাশের আগেই বাজারে এ নিয়ে শুরু হয়েছে গুজব।

ব্যাংকগুলোর প্রথম প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন তুলনামূলক খারাপ ছিল। তবে এ প্রান্তিকে ব্যাংকগুলোর অবস্থান ভালো থাকবে এ ধরনের গুজব ইতিমধ্যে বাজারে ছড়িয়ে পড়েছে। আর এ গুজবের ওপর ভিত্তি করে বিনিয়োগের সিদ্ধান্তও নিতে শুরু করেছেন অনেকে।

তাদের মতে, অধিকাংশ সময় এ ধরনের আগাম তথ্য সত্য হয়। তাই আগাম তথ্যের ভিত্তিতে বিনিয়োগ করা বিনিয়োগকারীদের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। মূলত শুরুতে ইনসাইডার ট্রেডিংয়ের মাধ্যম লাভবান হলেও এক সময় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের চরম মূল্য দিতে হয়- এমনটি মনে করেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

এ ব্যাপারে একটি মার্চেন্ট ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, দেশের শেয়ারবাজারের অধিকাংশ বিনিয়োগকারী গুজব সম্পর্কে অসচেতন। এছাড়া শেয়ার ব্যবসা সম্পর্কেও অধিকাংশ বিনিয়োগকারীর যথেষ্ট জ্ঞান নেই। কিন্তু তারা কম সময়ে অধিক মুনাফা প্রত্যাশী। যে কারণে তাদের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার সুযোগ পায় কারসাজি চক্র।

বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশের শেয়ারবাজারে ইনসাইডার ট্রেডিংয়ের রহস্য উদঘাটনের প্রক্রিয়া যথেষ্ট শক্তিশালী নয়। তাছাড়া ইনসাইডার ট্রেডিং রোধে কোনো পদক্ষেপই সুফল বয়ে আনতে পারে না। পাশাপাশি আগাম তথ্যগুলো অতি দ্রুত বাজারে ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা তা বিশ্বাস করেন এবং সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেন। তাই কারা ইনসাইডার ট্রেডিংয়ের সঙ্গে জড়িত তা বের করা দুষ্কর হয়ে পড়ে। এছাড়া এ ধরনের লেনদেনে নিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বরাবরই উদাসীন। কিন্তু বিনিয়োগকারীদের নিজেদের স্বার্থেই এ লেনদেন থেকে বিরত থাকা প্রয়োজন। এ ধরনের লেনদেন থেকে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক থাকতে হবে। আর বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মৌলভিত্তির কোম্পানিকে সবসময় প্রাধান্য দিতে হবে বলে মনে করেন বাজার বাজার সংশ্লিষ্টরা।

শেয়ারনিউজ২৪/এ/আআ/২০০৫ঘ.
- See more at: http://www.sharenews24.com/index.php?page=details&nc=52&news_id=38032#sthash.raAMcEnM.dpuf
বাড়তে পারে ইনসাইডার ট্রেডিং প্রবণতা
 1  1 Google +0  0  0  0
ঢাকা, ফেব্রুয়ারি ০২: পুঁজিবাজারের গত দুই মাসের আচরণ অনেকটাই স্বাভাবিক। অধিকাংশ শেয়ার দরের পাশাপাশি বাড়ছে লেনদেন। ডিসেম্বর ক্লোজিং কোম্পানিগুলো রয়েছে ডিভিডেন্ড ঘোষণার দ্বারপ্রান্তে। অন্যদিকে ডিসেম্বর শেষে প্রান্তিক আর্থিক প্রতিবেদনও প্রকাশের আওতায় রয়েছে। ইতিমধ্যে অনেক কোম্পানি প্রান্তিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এ সুযোগে ফায়দা হাসিলে সক্রিয় হচ্ছে একশ্রেণীর বিনিয়োগকারী। ইনসাইডার ট্রেডিংয়ের মাধ্যমে লাভবান হতে তারা ইতিমধ্যে বিভিন্ন কোম্পানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আঁতাত শুরু করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তাই ঊর্ধ্বমুখী বাজারে ইনসাইডার ট্রেডিংয়ের সুবিধাভোগী বিনিয়োগকারীদের ফাঁদ থেকে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা। কারণ বাজারে ইনসাইডার ট্রেডিং শুরু হলে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হন।


বিনিয়োগকারীরা বলছেন, ইনসাইডার ট্রেডিং বা কোম্পানির মূল্য সংবেদনশীল তথ্য আগাম ফাঁসের মাধ্যমে স্বার্থ হাসিলের পাঁয়তারা আবারো ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। জুন ক্লোজিংয়ের পর বিভিন্ন কোম্পানির প্রান্তিক প্রতিবেদনের তথ্য আগাম ঘোষণার মাধ্যমে ফায়দা হাসিলের চক্রান্তে মেতে ওঠে একশ্রেণীর বিনিয়োগকারী।ক কেননা বিভিন্ন ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং বীমা খাতের বেশিরভাগ কোম্পানির আর্থিক বছর শেষ হয় ডিসেম্বরে। ইতিমধ্যে এসব প্রতিষ্ঠানের অর্ধবার্ষিক হিসাব ক্লোজ হয়েছে। আর এসব তথ্য প্রকাশের আগেই বাজারে এ নিয়ে শুরু হয়েছে গুজব।

ব্যাংকগুলোর প্রথম প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন তুলনামূলক খারাপ ছিল। তবে এ প্রান্তিকে ব্যাংকগুলোর অবস্থান ভালো থাকবে এ ধরনের গুজব ইতিমধ্যে বাজারে ছড়িয়ে পড়েছে। আর এ গুজবের ওপর ভিত্তি করে বিনিয়োগের সিদ্ধান্তও নিতে শুরু করেছেন অনেকে।

তাদের মতে, অধিকাংশ সময় এ ধরনের আগাম তথ্য সত্য হয়। তাই আগাম তথ্যের ভিত্তিতে বিনিয়োগ করা বিনিয়োগকারীদের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। মূলত শুরুতে ইনসাইডার ট্রেডিংয়ের মাধ্যম লাভবান হলেও এক সময় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের চরম মূল্য দিতে হয়- এমনটি মনে করেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

এ ব্যাপারে একটি মার্চেন্ট ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, দেশের শেয়ারবাজারের অধিকাংশ বিনিয়োগকারী গুজব সম্পর্কে অসচেতন। এছাড়া শেয়ার ব্যবসা সম্পর্কেও অধিকাংশ বিনিয়োগকারীর যথেষ্ট জ্ঞান নেই। কিন্তু তারা কম সময়ে অধিক মুনাফা প্রত্যাশী। যে কারণে তাদের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার সুযোগ পায় কারসাজি চক্র।

বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশের শেয়ারবাজারে ইনসাইডার ট্রেডিংয়ের রহস্য উদঘাটনের প্রক্রিয়া যথেষ্ট শক্তিশালী নয়। তাছাড়া ইনসাইডার ট্রেডিং রোধে কোনো পদক্ষেপই সুফল বয়ে আনতে পারে না। পাশাপাশি আগাম তথ্যগুলো অতি দ্রুত বাজারে ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা তা বিশ্বাস করেন এবং সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেন। তাই কারা ইনসাইডার ট্রেডিংয়ের সঙ্গে জড়িত তা বের করা দুষ্কর হয়ে পড়ে। এছাড়া এ ধরনের লেনদেনে নিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বরাবরই উদাসীন। কিন্তু বিনিয়োগকারীদের নিজেদের স্বার্থেই এ লেনদেন থেকে বিরত থাকা প্রয়োজন। এ ধরনের লেনদেন থেকে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক থাকতে হবে। আর বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মৌলভিত্তির কোম্পানিকে সবসময় প্রাধান্য দিতে হবে বলে মনে করেন বাজার বাজার সংশ্লিষ্টরা।

শেয়ারনিউজ২৪/এ/আআ/২০০৫ঘ.
- See more at: http://www.sharenews24.com/index.php?page=details&nc=52&news_id=38032#sthash.raAMcEnM.dpuf
বাড়তে পারে ইনসাইডার ট্রেডিং প্রবণতা
 1  1 Google +0  0  0  0
ঢাকা, ফেব্রুয়ারি ০২: পুঁজিবাজারের গত দুই মাসের আচরণ অনেকটাই স্বাভাবিক। অধিকাংশ শেয়ার দরের পাশাপাশি বাড়ছে লেনদেন। ডিসেম্বর ক্লোজিং কোম্পানিগুলো রয়েছে ডিভিডেন্ড ঘোষণার দ্বারপ্রান্তে। অন্যদিকে ডিসেম্বর শেষে প্রান্তিক আর্থিক প্রতিবেদনও প্রকাশের আওতায় রয়েছে। ইতিমধ্যে অনেক কোম্পানি প্রান্তিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এ সুযোগে ফায়দা হাসিলে সক্রিয় হচ্ছে একশ্রেণীর বিনিয়োগকারী। ইনসাইডার ট্রেডিংয়ের মাধ্যমে লাভবান হতে তারা ইতিমধ্যে বিভিন্ন কোম্পানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আঁতাত শুরু করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তাই ঊর্ধ্বমুখী বাজারে ইনসাইডার ট্রেডিংয়ের সুবিধাভোগী বিনিয়োগকারীদের ফাঁদ থেকে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা। কারণ বাজারে ইনসাইডার ট্রেডিং শুরু হলে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হন।


বিনিয়োগকারীরা বলছেন, ইনসাইডার ট্রেডিং বা কোম্পানির মূল্য সংবেদনশীল তথ্য আগাম ফাঁসের মাধ্যমে স্বার্থ হাসিলের পাঁয়তারা আবারো ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। জুন ক্লোজিংয়ের পর বিভিন্ন কোম্পানির প্রান্তিক প্রতিবেদনের তথ্য আগাম ঘোষণার মাধ্যমে ফায়দা হাসিলের চক্রান্তে মেতে ওঠে একশ্রেণীর বিনিয়োগকারী।ক কেননা বিভিন্ন ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং বীমা খাতের বেশিরভাগ কোম্পানির আর্থিক বছর শেষ হয় ডিসেম্বরে। ইতিমধ্যে এসব প্রতিষ্ঠানের অর্ধবার্ষিক হিসাব ক্লোজ হয়েছে। আর এসব তথ্য প্রকাশের আগেই বাজারে এ নিয়ে শুরু হয়েছে গুজব।

ব্যাংকগুলোর প্রথম প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন তুলনামূলক খারাপ ছিল। তবে এ প্রান্তিকে ব্যাংকগুলোর অবস্থান ভালো থাকবে এ ধরনের গুজব ইতিমধ্যে বাজারে ছড়িয়ে পড়েছে। আর এ গুজবের ওপর ভিত্তি করে বিনিয়োগের সিদ্ধান্তও নিতে শুরু করেছেন অনেকে।

তাদের মতে, অধিকাংশ সময় এ ধরনের আগাম তথ্য সত্য হয়। তাই আগাম তথ্যের ভিত্তিতে বিনিয়োগ করা বিনিয়োগকারীদের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। মূলত শুরুতে ইনসাইডার ট্রেডিংয়ের মাধ্যম লাভবান হলেও এক সময় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের চরম মূল্য দিতে হয়- এমনটি মনে করেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

এ ব্যাপারে একটি মার্চেন্ট ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, দেশের শেয়ারবাজারের অধিকাংশ বিনিয়োগকারী গুজব সম্পর্কে অসচেতন। এছাড়া শেয়ার ব্যবসা সম্পর্কেও অধিকাংশ বিনিয়োগকারীর যথেষ্ট জ্ঞান নেই। কিন্তু তারা কম সময়ে অধিক মুনাফা প্রত্যাশী। যে কারণে তাদের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার সুযোগ পায় কারসাজি চক্র।

বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশের শেয়ারবাজারে ইনসাইডার ট্রেডিংয়ের রহস্য উদঘাটনের প্রক্রিয়া যথেষ্ট শক্তিশালী নয়। তাছাড়া ইনসাইডার ট্রেডিং রোধে কোনো পদক্ষেপই সুফল বয়ে আনতে পারে না। পাশাপাশি আগাম তথ্যগুলো অতি দ্রুত বাজারে ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা তা বিশ্বাস করেন এবং সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেন। তাই কারা ইনসাইডার ট্রেডিংয়ের সঙ্গে জড়িত তা বের করা দুষ্কর হয়ে পড়ে। এছাড়া এ ধরনের লেনদেনে নিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বরাবরই উদাসীন। কিন্তু বিনিয়োগকারীদের নিজেদের স্বার্থেই এ লেনদেন থেকে বিরত থাকা প্রয়োজন। এ ধরনের লেনদেন থেকে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক থাকতে হবে। আর বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মৌলভিত্তির কোম্পানিকে সবসময় প্রাধান্য দিতে হবে বলে মনে করেন বাজার বাজার সংশ্লিষ্টরা।

শেয়ারনিউজ২৪/এ/আআ/২০০৫ঘ.
- See more at: http://www.sharenews24.com/index.php?page=details&nc=52&news_id=38032#sthash.
 
ঢাকা, ফেব্রুয়ারি ০২: পুঁজিবাজারের গত দুই মাসের আচরণ অনেকটাই স্বাভাবিক। অধিকাংশ শেয়ার দরের পাশাপাশি বাড়ছে লেনদেন। ডিসেম্বর ক্লোজিং কোম্পানিগুলো রয়েছে ডিভিডেন্ড ঘোষণার দ্বারপ্রান্তে। অন্যদিকে ডিসেম্বর শেষে প্রান্তিক আর্থিক প্রতিবেদনও প্রকাশের আওতায় রয়েছে। ইতিমধ্যে অনেক কোম্পানি প্রান্তিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এ সুযোগে ফায়দা হাসিলে সক্রিয় হচ্ছে একশ্রেণীর বিনিয়োগকারী। ইনসাইডার ট্রেডিংয়ের মাধ্যমে লাভবান হতে তারা ইতিমধ্যে বিভিন্ন কোম্পানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আঁতাত শুরু করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তাই ঊর্ধ্বমুখী বাজারে ইনসাইডার ট্রেডিংয়ের সুবিধাভোগী বিনিয়োগকারীদের ফাঁদ থেকে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা। কারণ বাজারে ইনসাইডার ট্রেডিং শুরু হলে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হন।


বিনিয়োগকারীরা বলছেন, ইনসাইডার ট্রেডিং বা কোম্পানির মূল্য সংবেদনশীল তথ্য আগাম ফাঁসের মাধ্যমে স্বার্থ হাসিলের পাঁয়তারা আবারো ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। জুন ক্লোজিংয়ের পর বিভিন্ন কোম্পানির প্রান্তিক প্রতিবেদনের তথ্য আগাম ঘোষণার মাধ্যমে ফায়দা হাসিলের চক্রান্তে মেতে ওঠে একশ্রেণীর বিনিয়োগকারী।ক কেননা বিভিন্ন ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং বীমা খাতের বেশিরভাগ কোম্পানির আর্থিক বছর শেষ হয় ডিসেম্বরে। ইতিমধ্যে এসব প্রতিষ্ঠানের অর্ধবার্ষিক হিসাব ক্লোজ হয়েছে। আর এসব তথ্য প্রকাশের আগেই বাজারে এ নিয়ে শুরু হয়েছে গুজব।

ব্যাংকগুলোর প্রথম প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন তুলনামূলক খারাপ ছিল। তবে এ প্রান্তিকে ব্যাংকগুলোর অবস্থান ভালো থাকবে এ ধরনের গুজব ইতিমধ্যে বাজারে ছড়িয়ে পড়েছে। আর এ গুজবের ওপর ভিত্তি করে বিনিয়োগের সিদ্ধান্তও নিতে শুরু করেছেন অনেকে।

তাদের মতে, অধিকাংশ সময় এ ধরনের আগাম তথ্য সত্য হয়। তাই আগাম তথ্যের ভিত্তিতে বিনিয়োগ করা বিনিয়োগকারীদের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। মূলত শুরুতে ইনসাইডার ট্রেডিংয়ের মাধ্যম লাভবান হলেও এক সময় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের চরম মূল্য দিতে হয়- এমনটি মনে করেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

এ ব্যাপারে একটি মার্চেন্ট ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, দেশের শেয়ারবাজারের অধিকাংশ বিনিয়োগকারী গুজব সম্পর্কে অসচেতন। এছাড়া শেয়ার ব্যবসা সম্পর্কেও অধিকাংশ বিনিয়োগকারীর যথেষ্ট জ্ঞান নেই। কিন্তু তারা কম সময়ে অধিক মুনাফা প্রত্যাশী। যে কারণে তাদের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার সুযোগ পায় কারসাজি চক্র।

বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশের শেয়ারবাজারে ইনসাইডার ট্রেডিংয়ের রহস্য উদঘাটনের প্রক্রিয়া যথেষ্ট শক্তিশালী নয়। তাছাড়া ইনসাইডার ট্রেডিং রোধে কোনো পদক্ষেপই সুফল বয়ে আনতে পারে না। পাশাপাশি আগাম তথ্যগুলো অতি দ্রুত বাজারে ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা তা বিশ্বাস করেন এবং সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেন। তাই কারা ইনসাইডার ট্রেডিংয়ের সঙ্গে জড়িত তা বের করা দুষ্কর হয়ে পড়ে। এছাড়া এ ধরনের লেনদেনে নিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বরাবরই উদাসীন। কিন্তু বিনিয়োগকারীদের নিজেদের স্বার্থেই এ লেনদেন থেকে বিরত থাকা প্রয়োজন। এ ধরনের লেনদেন থেকে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক থাকতে হবে। আর বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মৌলভিত্তির কোম্পানিকে সবসময় প্রাধান্য দিতে হবে বলে মনে করেন বাজার বাজার সংশ্লিষ্টরা।

শেয়ারনিউজ২৪/এ/আআ/২০০৫ঘ.

তোশিবার ল্যাপটপে ছাড়

তোশিবার ল্যাপটপঅনলাইন ডেস্ক | আপডেট: ১৬:০৭, ফেব্রুয়ারি ০২, ২০১৪
তোশিবা ল্যাপটপের দুটি মডেলে এই ফেব্রুয়ারিতে বিশেষ অফার ঘোষণা করেছে দেশের কম্পিউটার ও প্রযুক্তিপণ্য বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান স্মার্ট টেকনোলজিস।

বিশেষ অফারে তোশিবা স্যাটেলাইট সি৪০ এবং সি৪০-এ১২২ মডেল দুটিতে বিশেষ মূল্যছাড় দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। স্যাটেলাইট সি৪০ মডেলটির দাম ৩৮ হাজার ৯০০ টাকা থেকে কমিয়ে ৩৭ হাজার ৫০০ টাকা এবং সি৪০-এ১২২ মডেলটির দাম ৩৯ হাজার টাকা থেকে কমিয়ে ৩৭ হাজার টাকায় বিক্রি করছে স্মার্ট।

স্যাটেলাইট সি৪০ মডেলের ল্যাপটপটিতে রয়েছে ইনটেল কোর আই থ্রি-৩১২০এম প্রসেসর, চার জিবি ডিডিআর৩ র্যাম, ৫০০ জিবি হার্ডড্রাইভ, ১৪ ইঞ্চি ডিসপ্লে, ওয়াইফাই ও ব্লুটুথ সুবিধা। স্যাটেলাইট সি৪০-এ১২২ মডেলেটিতে রয়েছে ইনটেল কোর আই থ্রি-৩১১০এম প্রসেসর।

Saturday, 1 February 2014

৫ হাজার পয়েন্টের দিকে দৃষ্টি ডিএসই সূচকের

কিনতে লাভ করতে না পারলে , বিক্রি করে লাভ করা  যায়  না বললে ই  চলে

  ২ ফেব্রুয়ারি ২০১৪, রবিবার
দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির খুব বড় ধরনের পরিবর্তন না ঘটলে পুঁজিবাজারের সামনের দিনগুলো ভালো ফল বয়ে আনতে পারে এমনটি মনে করছেন পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, যে গতিতে পুঁজিবাজারগুলো গত একটি মাস অতিক্রম করেছে তাতে বাজারের আস্থাহীনতা অনেকটাই দূর হয়েছে। দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা। দুই বছর পর আবার তারা পাঁচ হাজার পয়েন্টের দোরগোড়ায় দেখছেন  দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচককে। ২০১০ সালের পুঁজিবাজার বিপর্যয়ের সর্বশেষ ২০১২ সালের ২১ মে এ অবস্থানে ছিল ডিএসই সূচক। বাজারের সাম্প্রতিক ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা এবং সার্বিক পরিস্থিতি বিচারে এ প্রত্যাশা এখন সবার মাঝে।
বিপর্যয়-পরবর্তী তিনটি বছর পার হলেও প্রকৃত অর্থে ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না দেশের দুই পুঁজিবাজার। অনেকটা খুঁড়িয়ে চলতে থাকা বাজারগুলো মাঝে মধ্যে বাজেট বা বিভিন্ন উপলক্ষকে সামনে রেখে বারবার ঘুরে দাঁড়ানোর প্রয়াস পেলেও আস্থাহীনতার কারণে তা সম্ভব হয়নি। দুই পা সামনে এগোতে না এগোতেই আবার হোঁচট খেয়েছে। আর এর ফলে দিনের পর দিন বিনিয়োগকারীদের লোকসানের পাল্লা আরো ভারী হয়েছে। এ সময় সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিকটি ছিল যখনই ডিএসই সূচক পাঁচ হাজার পয়েন্টের কাছাকাছি পৌঁছেছে তখনই হোঁচট খেয়েছে সূচক। পাঁচ হাজার পয়েন্টের এ মাইলফলক আর পার করা হয়ে ওঠেনি। তবে এবার তার শেষ দেখতে চান বিনিয়োগকারীরা। তাদের প্রত্যাশা ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণে চলমান ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে। পাঁচ হাজার পয়েন্টের ঘরে পৌঁছবে ডিএসই সূচক।  
২০১০ সালের ৬ ডিসেম্বর বিপর্যয় শুরুর প্রথম দিন ডিএসইর তৎকালীন প্রধান সূচকটির অবস্থান ছিল ৮ হাজার ৯১৮ দশমিক ৫১ পয়েন্টে। সেদিন সূচকটির ১৪৭ পয়েন্ট অবনতি দিয়ে যে পতন শুরু তা আর রোধ করা সম্ভব হয়নি। এর মাত্র সাত কর্মদিবস পর ১৯ ডিসেম্বর এক দিনে ফের সূচকটির ৬০০ পয়েন্টের বেশি হারায় ডিএসই। পরে শুধুই পতন আর পতন। আর টানা এ পতনের ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ ২১ মে ২০১২ তারিখের পর আর প্রধান সূচকটির পাঁচ হাজার পয়েন্টের নাগাল পায়নি ডিএসই। ওইদিন ডিএসইর সাধারণ সূচকটির অবস্থান ছিল পাঁচ হাজার ২২ দশমিক ৯৫  পয়েন্টে। ঊর্ধ্বমুখী তো আর হয়ইনি বরং পরবর্তী ১১ মাসের মাথায় ২৯ এপ্রিল ২০১৩ একই সূচকটি নেমে আসে আগের চার বছরের সর্বনিম্ন তিন হাজার ৬১৭ পয়েন্টে। 
গত দুই বছরে পুঁজিবাজারে যুক্ত হয়েছে ৩২টির মতো কোম্পানি যেগুলোর মোট ইক্যুইটি ১৬ হাজার কোটি টাকার বেশি এবং এখনকার বাজার মূলধনে তা যোগ করেছে প্রায় ৩৮ হাজার কোটি টাকা। তার পরও টানা দরপতনের কারণে এত বড় বাজার মূলধনও ডিএসই সূচকে খুব একটা  প্রতিফলন ঘটাতে পারছে না। 
এ দিকে ডিএসইর প্রধান সূচকটির যথার্থতা নিয়ে সংশ্লিষ্ট সব মহলের মধ্যে নানা সন্দেহ সংশয় দানা বেঁধে উঠলে গেল বছরের ২৭ জানুয়ারি চালু করা হয় ডিএসইর নতুন সূচক ডিএসইএক্স। কিন্তু নতুন সূচক চালু বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যে প্রত্যাশা জাগিয়েছিল তা এক ধরনের মাঠেই মারা যায়। পতন থামা দূরে থাক আরো বাড়তে থাকে পতনের গতি। ৪ হাজার ৫৫ দশমিক ৯০ পয়েন্ট থেকে শুরু করার মাত্র তিন মাসের মাথায় ৩০ এপ্রিল ডিএসইর নতুন এ সূচক ডিএসইএক্স নেমে আসে তিন হাজার ৪৩৮ দশমিক ৮৯ পয়েন্টে। অর্থাৎ এ তিন মাসে একই সূচক হারায় ৬১২ পয়েন্ট।
সর্বশেষ বছরের শেষদিকে নির্বাচনকালীন সরকারব্যবস্থা নিয়ে সৃষ্ট রাজনৈতিক টানাপড়েন পুঁজিবাজারের গতিশীলতাকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করে। দিনের পর দিন নেতিবাচক শিকার হয় পুঁজিবাজারগুলো। ডিএসইর লেনদেন নেমে আসে শত কোটি টাকায়।  
তবে নির্বাচন-পরবর্তী সরকার গঠিত হলে পরিস্থিতির উন্নতি ঘটতে শুরু করে। এর মধ্যে নতুন বছর শুরু হওয়ায় তার ইতিবাচক প্রভাবও ছিল বাজারে। সব মিলিয়ে গত এক মাস বাজারগুলো পার করে সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায়। এ এক মাসে ডিএসই সূচকের উন্নতি ঘটে ৫ শ’ পয়েন্টের বেশি। ৪ হাজার ২৬৬ পয়েন্ট থেকে বছর শুরু করা ডিএসইর প্রধান সূচকটি গত মঙ্গলবার পৌঁছে যায় ৪ হাজার ৭৫৮ পয়েন্টে। 
পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, অন্যান্য সময়ের  চেয়ে এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। এর আগে বরাবরই পাঁচ হাজার পয়েন্টের কাছাকাছি গিয়ে পুঁজিবাজার সূচক নিম্নমুখী হয়ে পড়লেও বাজারের বর্তমান বাস্তবতায় তা নাও ঘটতে পারে। কারণ প্রতিষ্ঠানগুলো গত তিন বছরের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন বেশি সক্রিয়। তা ছাড়া নতুন বছর শুরু হওয়ায় তারা নতুন বিনিয়োগ পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর এ অংশগ্রহণ আশান্বিত করে তুলেছে ব্যক্তি বিনিয়োগকারীদের। পাশাপাশি বাজারে প্রতিদিনই যুক্ত হচ্ছেন নতুন নতুন বিনিয়োগকারী। ফলে গত এক মাসে দুই বাজারে মাঝে মধ্যে কিছুটা মিশ্র প্রবণতা দেখা গেলেও প্রকৃত অর্থে কোনো বড় সংশোধনের ঘটনা ঘটেনি। অন্য দিকে ঘটেনি অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির ঘটনাও। একটি ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থানের দিকেই পুঁজিবাজার এগিয়ে যাচ্ছে এমনটিই মনে করছেন তারা। এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে সূচকের পাঁচ হাজার পয়েন্ট বা তারও বেশি এগিয়ে যাওয়া কোনো অস্বাভাবিক কিছু নয়। 
তবে তারা এ-ও মনে করেন, এ মুহূর্তে বিনিয়োগকারীদের যৌক্তিক আচরণই সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। মৌলভিত্তিই হতে হবে তাদের প্রধান বিবেচনা। গুজব বা কানকথায় আসক্ত না হয়ে নির্ভরযোগ্য ও স্বচ্ছ প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগই হতে পারে কম ঝুঁকিপূর্ণ। তা ছাড়া  প্রতিটি বাজারেই মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি সংশোধন ঘটে। সংশোধনকে বিনিয়োগসহায়ক করে নিতে পারলেই তা থেকেও মুনাফা নেয়া সম্ভব