Monday, 17 February 2014

আলু বিক্রি হচ্ছে না,

আলুর মূল্যবৃদ্ধির দাবিতে বাংলাদেশ কৃষক সমিতি গতকাল সোমবার রাজধানীতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বস্তা ও ঝাঁকা থেকে রাস্তায় এভাবে আলু ফেলে দেয় ।  প্রথম আলো বোরো লাগাতে পারছেন না কৃষক
বগুড়া জেলায় এবার আলুর ব্যাপক ফলনই কৃষকদের বিপাকে ফেলে দিয়েছে। কারণ, মাঠের পর মাঠজুড়ে যে হারে আলুর ফলন হয়েছে, সেই তুলনায় ক্রেতা মিলছে না। তাই কৃষকদের এখন বলতে গেলে পানির দরেই আলু বিক্রি করতে কিংবা তা খেতেই ফেলে রাখতে হচ্ছে।
এই অঞ্চলের হাটবাজারগুলোতে এখন প্রতি মণ গ্রানোলা জাতের আলু মাত্র ৭০ থেকে ৭৫ টাকা (প্রতি কেজি পৌনে দুই টাকা), কার্ডিনাল ও হল্যান্ড আলু ১১০ থেকে ১২০ টাকা ও দেশি গোল আলু ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
অথচ গত বছর প্রতি মণ গ্রানোলা, কার্ডিনাল ও হল্যান্ড আলু ৪০০ টাকায় এবং দেশি গোল আলু ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা মণ দরে কেনাবেচা হয়েছে।
কৃষকেরা জানান, আলুর দাম কমে যাওয়ায় তাঁদের উৎপাদন খরচও উঠছে না। তাই তাঁরা এখন আর খেত থেকে আলু তুলতে আগ্রহী নন। অন্যদিকে, খেত থেকে আলু তুলতে না পারায় পরবর্তী ফসল বোরো ধানের আবাদও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
কালাই উপজেলার কাটাহার গ্রামের কৃষক রাজু মিয়া বলেন, ‘১৮ বিঘা জমিত গ্রানোলা আলু লাগাচি। গতবার খ্যাতত থ্যাকেই ৪০০ টেকা মণ দরে আলু বেচিচি। এইবার আলু তুলে হাটত লিয়েও ব্যাচপার পারিচ্চি না।’
বগুড়ায় সবজির সবচেয়ে বড় মোকাম মহাস্থানহাটের আড়তদার জাহিদুল ইসলাম জানান, গতবার প্রতিদিন গড়ে ২০০ ট্রাক আলু কেনাবেচা হয়েছে। এবার প্রতিদিন গড়ে ২০ ট্রাক আলুও কেনাবেচা নেই।
বিক্রি কমে যাওয়া প্রসঙ্গে মহাস্থানহাটের ব্যবসায়ীরা জানান, বাজারে এখনো প্রচুর পরিমাণ পুরোনো আলু রয়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য সবজির দামও কম। এ জন্য এবার নতুন আলুর কদর কম।
একই কথা বলেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এ এইচ এম বজলুর রশীদও। তাঁর মতে, এবার বগুড়া অঞ্চলে সবজির রেকর্ড উৎপাদন হয়েছে। ফলে সবজির দাম তুলনামূলক কম হওয়ায় আলুর চাহিদাও এবার কিছুটা কম।
এদিকে বগুড়াসহ উত্তরাঞ্চলের ২৭টি হিমাগারে এখনো প্রায় আট লাখ ৩৫ হাজার বস্তা পুরোনো আলু অবিক্রীত রয়েছে। গত মৌসুমে ১৯৩টি হিমাগারে দুই কোটি ৩০ লাখ বস্তা আলু রেখে চরম বিপাকে পড়েছিলেন উত্তরাঞ্চলের কৃষকেরা। বাজারদরে ধসের কারণে তাঁদের অনেকেই হিমাগারে রাখা আলু আর তোলেননি। সে জন্য ওই আলু ফেলে দিয়ে হিমাগার খালি করেছেন কোনো কোনো হিমাগারের মালিক।
বাংলাদেশ কোল্ডস্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জসিম উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, রংপুর অঞ্চলের ২২টি হিমাগারে প্রায় সাড়ে সাত লাখ বস্তা এবং বগুড়ার পাঁচ হিমাগারে এক লাখ বস্তা আলু অবিক্রীত রয়েছে।
জসিম উদ্দিন আরও বলেন, গতবার অনেক হিমাগার থেকে আলুচাষি ও ব্যবসায়ীদের ঋণ দেওয়া হয়েছিল। তাঁরা আলু তুলতে না আসায় এসব ঋণ আদায় হয়নি। লোকসানের মুখে এবার হিমাগার চালু নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
বগুড়ার শাহসুলতান হিমাগারের মালিক আবদুল গফুর দাবি করেন, তাঁর চারটি হিমাগারে গতবার আড়াই লাখ বস্তা আলু সংরক্ষণ করা হলেও এর বিপরীতে ভাড়া আদায় হয়নি।

আয় ও লভ্যাংশ বাড়লেও শেয়ারের দাম কমেছে


আগের বছরের চেয়ে আয় বেড়েছে, সেই সঙ্গে বেড়েছে ঘোষিত লভ্যাংশের হারও। কিন্তু এই ঘোষণার পরও গতকাল সোমবার তালিকাভুক্ত কোম্পানি লংকাবাংলা ফিন্যান্সের দাম কমেছে।
গত রোববার কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের সভা শেষে ২০১৩ সালের সমাপ্ত আর্থিক বছরের জন্য নগদ ও বোনাস মিলিয়ে মোট ২০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করা হয়। গতকাল এ ঘোষণা দুই স্টক এক্সচেঞ্জের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।
শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত আর্থিক খাতের কোম্পানি লংকাবাংলা ফিন্যান্স ১৫ শতাংশ নগদ ও ৫ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। সেই সঙ্গে বছর শেষে এটির শেয়ারপ্রতি আয় বা ইপিএস দেখানো হয়েছে চার টাকা ৫৮ পয়সা। ২০১২ সালে কোম্পানিটি ১০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা করেছিল। ওই বছর কোম্পানিটির ইপিএস ছিল এক টাকা ৭৭ পয়সা। সেই হিসাবে ২০১৩ সালের আর্থিক বছর শেষে কোম্পানিটির আয় ও লভ্যাংশ—উভয়ই বেড়েছে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গতকাল লেনদেন শেষে লংকাবাংলার প্রতিটি শেয়ারের দাম ৯০ পয়সা বা ১ দশমিক ২৭ শতাংশ কমে নেমে এসেছে ৬৯ টাকা ৫০ পয়সায়। অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) এদিন কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের দাম এক টাকা ২০ পয়সা কমেছে। যদিও এদিন প্রাতিষ্ঠানিক বা করপোরেট ঘোষণার কারণে কোম্পানিটির শেয়ারের দামের ওপর কোনো ধরনের মূল্যস্তর (সার্কিট ব্রেকার) আরোপিত ছিল না।
লভ্যাংশের পাশাপাশি কোম্পানিটি নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন সাপেক্ষে ৩০০ কোটি টাকার বন্ড ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে। চলতি আর্থিক চাহিদা পূরণে কোম্পানিটি অরূপান্তরযোগ্য জিরো কুপন বন্ড ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) অনুমোদন সাপেক্ষে এই বন্ড ছাড়তে পারবে প্রতিষ্ঠানটি।
লংকাবাংলার শেয়ারের দামের মতো গতকালও দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জে মূল্যসূচক কমেছে। আর ঢাকার বাজারে লেনদেন কমলেও চট্টগ্রামে কিছুটা বেড়েছে।
ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স এদিন প্রায় ৩০ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে চার হাজার ৬৮৪ পয়েন্টে। এনিয়ে টানা ছয় কার্যদিবস ডিএসইতে মূল্যসূচক কমল। সেই সঙ্গে লেনদেন নেমে এসেছে সাড়ে তিন শ কোটি টাকার নিচে। গতকাল দিন শেষে ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৩৪৪ কোটি টাকা, যা আগের দিনের চেয়ে ৪৬ কোটি টাকা কম।
এদিকে ডিএসইর নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিদ্দিকুর রহমান মিয়া গতকাল প্রথমবারের মতো ডিএসই কার্যালয়ে গেছেন। এ সময় তিনি ডিএসইর ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন। ডিএসইতে অবস্থানকালে নবনির্বাচিত চেয়ারম্যানের সঙ্গে একাধিক শেয়ারধারী পরিচালক সাক্ষাৎ করেন।

Wednesday, 12 February 2014

in chittagong SAFFRIN SPICE, 30% OFF


Monday, 10 February 2014

nikhut crafts .........10% off

REX FASHION DHAKA

তাৎক্ষণিক রপ্তানি আদেশ অর্ধেকে


, ফেব্রুয়ারি ১১, ২০১৪ | প্রথমআলো
অব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন কারণে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার প্রতি বিদেশি ক্রেতাদের আগ্রহ কমছে। মেলা চলাকালে ব্যবসায়ীরা বিচ্ছিন্নভাবে এ তথ্য দেন। আর সামগ্রিক পরিসংখ্যানও সেই বার্তাই দিচ্ছে। গতবারের চেয়ে এবারের মেলায় তাৎক্ষণিক রপ্তানির আদেশ (স্পট অর্ডার) কমেছে প্রায় ৫০ শতাংশ।
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে আয়োজিত এ বাণিজ্য মেলা গতকাল সোমবার শেষ হয়েছে। মাসব্যাপী এ মেলা থেকে এবার তাৎক্ষণিক রপ্তানি আদেশ পাওয়া গেছে মাত্র ৮০ কোটি ৪৪ লাখ টাকার। গত বছর এটির পরিমাণ ছিল দ্বিগুণ, ১৫৭ কোটি টাকা।
মেলা চলাকালে বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ীর সঙ্গে এই প্রতিবেদকের কথা হয়। তাঁদের অভিযোগ, রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে কয়েকটি খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠান মেলায় আসেনি। তা ছাড়া নাম আন্তর্জাতিক হলেও মেলার পরিবেশ হাট-বাজারের মতো হয়েছে। হকাররা যত্রতত্র পণ্য নিয়ে বসে হাঁটাচলায় প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করেছেন। আবার তাঁদের বিরামহীন হাঁকডাকেও বিরক্ত হয়েছেন ক্রেতা-দর্শনার্থীরা। তবে এসব দেখেও না দেখার ভান করেন আয়োজকেরা।
গতকাল বিকেলে মেলার শেষ দিন গিয়ে দেখা গেল, অন্যান্য দিনের চেয়ে লোকসমাগম বেশি। প্রবেশপথ, ভেতরের সরু সড়ক, স্টল, প্যাভিলিয়ন কোথাও তিল ধারণের জায়গা নেই। তার পরও বাদামবিক্রেতা থেকে শুরু করে খেলনা, পুতুল, কাপড়সহ নানা পণ্য নিয়ে বসে গেছে শত শত হকার। আর এদের ঘিরে মানুষের জটলাও কম নয়।
সাবা জুট ক্রাফটসের রুমন হোসেন গত বৃহস্পতিবার বলেন, ‘এটি আন্তর্জাতিক মেলা। এখানে পণ্য প্রদর্শন করাই মূল উদ্দেশ্য। কিন্তু ঘটনা উল্টো, কে কত বেশি বিক্রি করতে পারবে এখন সেই প্রতিযোগিতাই চলে। এক মাসেও বিদেশি ক্রেতার দেখা পাইনি।’ এ জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলে মত দেন তিনি।
অবশ্য মেলা ‘পরিপূর্ণ সফল’ বলেই দাবি করে সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান শুভাশীষ বসু। পরে রপ্তানি আদেশ কমার কারণ জানতে চাইলে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘গতবার দেশের ভেতর ও বাইরের হিসাব করে টাকার পরিমাণ বলা হয়েছিল। আর এবার শুধু বিদেশিটা বলা হয়েছে।’ অভ্যন্তরীণটা ধরলে গতবারের কাছাকাছি হবে বলে দাবি করেন তিনি।
ইপিবির এই ভাইস চেয়ারম্যানের বক্তব্য, এবারের মেলা থেকে সরকারের দেড় কোটি টাকার মূল্য সংযোজন কর বা মূসক আদায় হয়েছে।
এদিকে রপ্তানি আদেশ বৃদ্ধি কিংবা মেলাকে সত্যিকারের আন্তর্জাতিক রূপ দিতেও তেমন কোনো পরিকল্পনা নেই। কেবল পূর্বাচলে মেলার স্থায়ী বন্দোবস্ত ছাড়া। এটিও বছরের পর বছর আটকে আছে। আপাতত অনেক ক্রেতা সমাগম, বিক্রিবাট্টা ভালো এ নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে চাইছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভবিষ্যতে পূর্বাচলে মেলা আয়োজনের আশ্বাস দিলেন। রপ্তানি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কিছুদিন আগে রাজনৈতিক অস্থিরতার সৃষ্টি করার চেষ্টা হয়েছিল। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েন সাধারণ মানুষ, তারপর ব্যবসায়ীরা। এত কিছুর পরও অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে এক হাজার ৪২০ কোটি ডলারের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রপ্তানি আয় হয়েছে এক হাজার ৪৬৮ কোটি ডলার। এটি সম্ভব হওয়ার কারণ দেশের ব্যবসায়ীরা যথেষ্ট দক্ষ।’
সমাপনী অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন বাণিজ্যসচিব মাহবুব আহমেদ ও এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহ্মদ। সবশেষে মেলায় অংশ নেওয়া ৪৪টি প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কৃত করা হয়।

Sunday, 9 February 2014

প্রবাসী-আয়ে বাংলাদেশ সপ্তম

প্রথমআলো
প্রবাসী-আয়ে বাংলাদেশ সপ্তমএ বছর উন্নয়নশীল দেশগুলো ৪১ হাজার ৪০০ কোটি ডলারের সমপরিমাণ প্রবাসী-আয় হিসেবে পাবে বলে প্রাক্কলন করেছে বিশ্বব্যাংক। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরিমাণ প্রবাসী-আয় আসবে ভারতে। বিশ্বব্যাংকের প্রাক্কলন অনুসারে এই পরিমাণ হলো সাত হাজার ১০০ কোটি ডলার। দ্বিতীয় স্থানে আছে চীন, যেখানে ছয় হাজার কোটি ডলারের প্রবাসী-আয় আসবে।
বিশ্বব্যাংকের প্রাক্কলন অনুসারে, ২০১৩ সালে বাংলাদেশে এক হাজার ৫০০ কোটি ডলারের সমপরিমাণ প্রবাসী-আয় আসবে। প্রবাসী-আয়ের শীর্ষ ১০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান সপ্তম।
বিশ্বব্যাংকের ‘মাইগ্রেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ব্রিফ’ প্রতিবেদনে এসব প্রাক্কলন তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনটি গত বুধবার প্রকাশিত হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ কৌশিক বসু বলেন, ‘এই সর্বশেষ প্রাক্কলন প্রবাসী-আয়ের শক্তিমত্তারই প্রকাশ। তাজিকিস্তানের মতো দেশে জিডিপির অর্ধেকেই অবদান রাখছে প্রবাসী-আয়। বাংলাদেশে প্রবাসী-আয় দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা দিচ্ছে। সাত হাজার ১০০ কোটি ডলারের বার্ষিক প্রবাসী-আয় নিয়ে ভারত এই তালিকার শীর্ষে আছে। ২০১২ সালে ভারত যে পরিমাণ প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ পেয়েছে, এটি তার মাত্র তিন গুণ কম।’
কৌশিক বসু আরও বলেন, ‘যখন পুঁজির প্রবাহ দুর্বল হয়ে পড়ে, তখন প্রবাসী-আয়ের প্রবাহ তাতে ভারসাম্য আনতে বড় ভূমিকা রাখে। আবার যখন কোনো দেশের বিহিত মুদ্রা দুর্বল হয়ে পড়ে, তখন আবার প্রবাসী-আয়ের প্রবাহ বেড়ে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্থিতিশীলতা আনয়নের কাজ করে।’
বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুসারে, যে কয়টি দেশে প্রবাসী-আয় তাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের চেয়েও বেশি, তার মধ্যে একটি হলো বাংলাদেশ। এই তালিকায় শীর্ষে আছে তাজিকিস্তান, যার প্রবাসী-আয় রিজার্ভের তুলনায় ১৩৯ শতাংশ বেশি। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এ হার ১২১ শতাংশ।
এ প্রসঙ্গে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে লেনদেনের ভারসাম্য বজায় রাখতে প্রবাসী-আয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বাংলাদেশ, নেপাল, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কায় প্রবাসী-আয় তাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের চেয়েও বেশি।’
এতে আরও বলা হয়েছে যে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর পরস্পরের মধ্যে বিপুল পরিমাণ অভিবাসন ঘটেছে। আর তাই এটি সবচেয়ে বড় দক্ষিণ-দক্ষিণ অভিবাসন করিডরে রূপ নিয়েছে। ভারতে প্রায় ৩২ লাখ বাংলাদেশি ও ছয় লাখ নেপালি অভিবাসী আছে।
তবে প্রবাসে কাজ নিয়ে যাওয়ার জন্য যেসব দেশের শ্রমিকদের অনেক বেশি ব্যয় করতে হয়, সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো বাংলাদেশ। এই তথ্য উল্লেখ করে বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে স্বল্প দক্ষ শ্রমিক হিসেবে কাজ পেতে একজন বাংলাদেশিকে এক হাজার ৯৮৫ ডলার থেকে তিন হাজার ৮৭০ ডলার ব্যয় করতে হয়। অথচ এই শ্রমিকের মাসিক গড় বেতন হয় ২০০ ডলার।
তার মানে হলো, স্বল্প দক্ষ একজন বাংলাদেশি শ্রমিকের প্রায় ১৪ মাসের বেতন যা হয়, তা ব্যয় হয়ে যায় কাজ পাওয়ার জন্য। অন্যদিকে হংকংয়ে গৃহকর্মীর কাজ পেতে একজন ইন্দোনেশীয় শ্রমিককে তার পাঁচ মাসের বেতন আর উপসাগরীয় কোনো দেশে নির্মাণশ্রমিকের কাজ পেতে একজন নেপালিকে তার ছয় মাসের বেতন ব্যয় করতে হয়।
প্রতিবেদনে ভারতে এবার প্রবাসী-আয়ের প্রবাহ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে রুপির বড় ধরনের দরপতনকে উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, এ বছরের প্রথম ৯ মাসে মার্কিন ডলারের বিপরীতে রুপির দর কমেছে ২০ শতাংশ। ভারতে চলতি হিসাবের ঘাটতি যে চাপের মুখে পড়েছে, রুপির দরপতনে প্রবাসী-আয়ের প্রবাহ বেড়ে তা অনেকটাই সহনীয় করে দেবে।